মোবারক আহমদ খানঃ দ্যা জুটম্যান অফ সোনার বাংলা

জুটম্যান মোবারক আহমদ খান

সর্ববৃহৎ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং বিমানের ভিতরকার দেয়ালের উপাদান তৈরিতে কাজ করতে গিয়ে একদিন তার মনে হল, আমি এখানে কি করছি! আমার সব গবেষণা, উদ্ভাবন তো বিদেশের এদের কাছে চলে যাচ্ছে, এদের কাজে লাগছে, আমার দেশের কাজে তো লাগছে না!

আমেরিকার সর্বোচ্চ সুবিধা ছেড়ে তিনি দেশে ফিরে আসলেন। বানালেন পরিবেশবান্ধব পলিথিনের বিকল্প পাটের তৈরি চমক সৃষ্টিকারী সোনালি ব্যাগ

বানালেন পাটের তৈরি ঢেউটিন, পাট দিয়ে হেলমেট, টাইলস, গরুর হাড় থেকে উন্নত জিবানুকরন উপাদান, চিংড়ির খোসা দিয়ে বানিয়েছেন প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ, সামুদ্রিক শেওলা থেকে বানিয়েছেন উদ্ভিদের বৃদ্ধি সহায়ক সার, লালশাকের মতো সবজির উৎপাদন সময় কমিয়ে এনেছেন অর্ধেক।

পরিবারে তাকে চিনে খসরু নামে। বাল্যকাল থেকেই মেধাবী ছাত্র খসরুর আগ্রহ ছিল সাইন্টিফিক এক্সপেরিমেন্টের প্রতি। বিজ্ঞান বইয়ের ছবি আঁকা পরীক্ষাগুলো বাসায় নিজে নিজে করে দেখতেন। কখনও সফল কখনও ব্যর্থ, ব্যর্থতা তাকে থামায়নি বরং গবেষণার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে।

লড়াইটা ভাইয়ের জন্য ভাইয়ের, লড়াইটা একটা পরিবারের

কাজ করেছেন জার্মানিতে ডিএএডি এবং অ্যাভিএ’র সহকর্মী হিসেবে, জাপানে জেএসএসএস, এমআইএফ এর ফেলো হয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি) এবং অস্ট্রেলিয়ায় আইএইএ এর সহযোগী হিসেবে।

জুটম্যান মোবারক আহমদ খান
জুটম্যান

১৭ টি বই এবং একটি পেটেন্টসহ ৬০০ টির বেশি প্রকাশনার লেখক, সহ-লেখক।

দুনিয়া পাল্টে দেয়া এই উদ্ভাবকের নাম ডঃ মোবারক আহমদ খান। বাংলাদেশে যিনি জুট্ম্যান নামে অধিক পরিচিত।

তিনি পাট ভালোবাসেন। পাটকে নিয়ে যেতে যান বিশ্ব দরবারে। ফিরিয়ে আনতে চান সোনালি আঁশ পাটের হারানো অতীত। তিনি বলেন,

আমি যেখানেই যাই, হাতে করে একগাছি পাট নিয়ে যাই। এইটা তো একান্তই আমাদের।

পাটের তৈরি পলিথিনের বিকল্প সোনালি ব্যাগ উনার বিশ্বে আলোড়নসৃষ্টিকারী উদ্ভাবন। পরিবেশ রক্ষায় যেখানে দুনিয়া জুড়ে চলছে আন্দোলন, প্রায় বাহাত্তুরটি রাষ্ট্র আইন করে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে পলিথিনের ব্যবহার। সবাই খুঁজছে পলিথিনের বিকল্প পরিবেশ বান্ধব পণ্যের প্রতি। সোনালি ব্যাগ সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাজার উন্মুক্ত করে বসে আছে।

৭৯ বছরের তরুণ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গণস্বাস্থ্য

সোনালি ব্যাগ সেই জাদুর বিকল্প। সোনালি ব্যাগ মাটিতে পুতে রাখলে এক থেকে ছয় মাসের মধ্যে পচে যায়, পরে পরিণত হয় জৈব সারে। পানিতে ফেললে একমাসের মধ্যে পানিতে দ্রবীভূত হয়ে মাছের খাদ্যে রুপান্তরিত হয়ে যায়। পলিথিনের চেয়েও দেড়গুণ অধিক মজবুত ও টেকসই।

সোনালি ব্যাগ উৎপাদনে গিয়েছিল বহু আগেই। কিন্তু তারপর? দুইহাজার দুই সালে দেশে আইন করে পথিলিন ব্যাগ নিষিদ্ধ হয়েছিল। বাকিটা ইতিহাস।

বাজারে পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি। উৎপাদনে যাওয়ার পরও প্রণোদনার অভাবে দেশীয় বাজারে সোনালি ব্যাগের দেখা নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ অভাবনীয় এই উদ্ভাবন সম্পর্কে কিছুই জানে না।

বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশী পণ্য হিসেবে সোনালি ব্যাগের প্রচার প্রচারণা নেই।

কিছুদিন আগে শুনেছিলাম এই বিজ্ঞানী অসুস্থ, জানি না এখন কেমন আছেন, কোথায় আছেন। জানি না তার উদ্ভাবিত সোনালি ব্যাগের ভবিষ্যৎ। শুনেছিলাম প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

অথচ এক পি কে হালদার একাই চারটি দেশীয় নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় একহাজার দুইশ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে দেয়ার সংবাদ আমরা জানি।

‘বাবু খাইসো’ নিয়ে মিডিয়া আলোড়িত হয়, ভাস্কর্য নিয়ে রাষ্ট্র তোলপাড় হয় আর মোবারক আহমদ খান এর মতো মানুষরা বিশ্ব বদলে দেয়া পণ্য দেশের মাটিতে আবিষ্কার করে নীরবে পড়ে থাকেন।

তবুও নির্লজ্জের মতো বলবো, Thank you for being Bangladeshi


রাফিউজ্জামান সিফাতের বইসমূহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *